চীনে সমুদ্রপথে কয়লা আমদানি বেড়েছে, কমেছে ভারতে

সমুদ্রপথে আগস্টে চীনের তাপীয় কয়লা আমদানি চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।

সমুদ্রপথে আগস্টে চীনের তাপীয় কয়লা আমদানি চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এ সময় ভারতের আমদানি নেমে আসতে পারে সাড়ে তিন বছরের সর্বনিম্নে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের বিপরীতমুখী এ প্রবণতা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে কয়লা উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অবস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে চীনের আমদানি দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি এবং গত বছরের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি হতে পারে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টন। এটি পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া এ সময় অস্ট্রেলিয়া থেকেও সরবরাহ বাড়তে যাচ্ছে।

দেশটিতে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু একই সময় অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছরের এপ্রিলে পর সর্বনিম্ন। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উৎপাদন ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম তুলনামূলক কম থাকায় চীনের আমদানি চাহিদা বেড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার ২০০ কিলোক্যালরি মানের কয়লার দাম জুলাইয়ের শুরুতে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে ৪০ ডলার ৪৫ সেন্ট হয়েছিল। আগস্টে কিছুটা বেড়ে ৪৩ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলীয় কয়লার দামও জুনে চার বছরের সর্বনিম্ন থেকে আগস্টে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

কেপলার আরো জানায়, চলতি মাসে ভারতের কয়লা আমদানি নেমে আসতে পারে ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টনে, যা জুলাইয়ের তুলনায় কম ও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।

ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কয়লার ব্যবহার জুলাইয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। একই সময়ে জলশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ২২ ও ১৪ শতাংশ। এছাড়া দেশটি স্থানীয় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনও বাড়াচ্ছে। চলতি অর্থবছরে উত্তোলন ১১৫ কোটি টনে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে অভ্যন্তরীণ উত্তোলন ও মৌসুমি চাহিদাই আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দামের মূল চালিকাশক্তি। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসার ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় চীন ও ভারত উভয় দেশেই কয়লার আমদানিনির্ভরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আরও